দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

বঙ্গোপসাগরে ঘনীভূত হচ্ছে ঘূর্ণিঝড়ের শঙ্কা। আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সাগরে সৃষ্ট সুস্পষ্ট লঘুচাপটি ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর (বিডব্লিউওটি)। ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হলে এটি ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশ ও দক্ষিণ ওডিশা উপকূলের দিকে অগ্রসর হতে পারে। এদিকে, সম্ভাব্য এই আবহাওয়া ব্যবস্থার প্রভাবে বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) নিজেদের ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক পূর্বাভাসে এসব তথ্য জানিয়েছে বিডব্লিউওটি।
সংস্থাটি জানায়, দক্ষিণ-পূর্ব ও তৎসংলগ্ন পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত লঘুচাপটি আরও ঘনীভূত হয়ে সুস্পষ্ট লঘুচাপে পরিণত হয়েছে। এটি আগামী তিন থেকে চার দিনে ধীরে ধীরে শক্তিশালী হতে পারে। পরবর্তী ৬ থেকে ১২ ঘণ্টার মধ্যে নিম্নচাপ, ২৪ থেকে ৩৬ ঘণ্টার মধ্যে গভীর নিম্নচাপ এবং ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বিডব্লিউওটির তথ্য অনুযায়ী, লঘুচাপটির কেন্দ্র থেকে ১০০ কিলোমিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে বাতাসের গড় সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৩৫ কিলোমিটার। দমকা ও ঝোড়ো হাওয়াসহ এ গতিবেগ ঘণ্টায় ৪৫ কিলোমিটার পর্যন্ত বাড়ছে। এতে সাগর ধীরে ধীরে কিছুটা উত্তাল হয়ে উঠছে।
সংস্থাটি জানায়, শনিবার পর্যন্ত বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে সমুদ্রবন্দরগুলোতে কোনো সতর্কসংকেত দেওয়া হয়নি। তবে পরিস্থিতির পরিবর্তনে সতর্কসংকেত জারি হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে বিডব্লিউওটি।
এ অবস্থায় মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে আপাতত গভীর সাগরে না যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে সংস্থাটি। একই সঙ্গে উপকূলের কাছাকাছি চলাচলের সময় সতর্কতা অবলম্বন করতে বলা হয়েছে।
বিডব্লিউওটির পূর্বাভাস অনুযায়ী, লঘুচাপটি আগামী ২৪ থেকে ৩৬ ঘণ্টায় দক্ষিণ-দক্ষিণ-পূর্ব দিকে অগ্রসর হতে পারে। এরপর শক্তি বাড়িয়ে প্রধানত পশ্চিম দিকে এগিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পশ্চিম-মধ্য ও তৎসংলগ্ন দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে পৌঁছে এটি সর্বোচ্চ শক্তি অর্জন করতে পারে।
সংস্থাটির ধারণা, ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিলে এটি শক্তিশালী হয়ে আগামী ২৮ অক্টোবরের আশপাশে ভারতের উত্তর অন্ধ্রপ্রদেশ অথবা তৎসংলগ্ন দক্ষিণ ওডিশা উপকূল অতিক্রম করতে পারে। তবে ঘূর্ণিঝড়টির সম্ভাব্য সর্বোচ্চ শক্তি এখনো নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
বিডব্লিউওটির বর্তমান বিশ্লেষণে ঘূর্ণিঝড়টির সরাসরি বাংলাদেশে আঘাত হানার আশঙ্কা দেখা যাচ্ছে না। তবে এর গতিপথ ও শক্তির পরিবর্তনের ওপর পরিস্থিতি নির্ভর করবে।
লঘুচাপটির প্রভাবে ভারতের ওডিশা ও অন্ধ্রপ্রদেশে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা রয়েছে। পাশাপাশি এর দূরবর্তী প্রভাবে বাংলাদেশে আগামী ২৭ বা ২৮ অক্টোবর থেকে বৃষ্টিবলয় তৈরি হতে পারে।
বিডব্লিউওটির পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২৭ বা ২৮ অক্টোবর থেকে ১ নভেম্বরের মধ্যে দেশের বিভিন্ন এলাকায় উল্লেখযোগ্য বৃষ্টিপাত হতে পারে। এর মধ্যে বরিশাল, খুলনা, রাজশাহী, রংপুর, ময়মনসিংহ ও ঢাকা বিভাগে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ তুলনামূলক বেশি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অন্যদিকে, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগে বৃষ্টি হলেও তা তুলনামূলক কম হতে পারে।
তবে লঘুচাপটির গতিপথ, শক্তি ও সম্ভাব্য প্রভাব সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরবর্তী পূর্বাভাস ও সতর্কবার্তার দিকে নজর রাখা জরুরি।
কেএম